বিশ্ব হার্ট দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা: সময়মতো চিকিৎসাই হৃদরোগ প্রতিরোধের চাবিকাঠি
- আপলোড সময় : ৩০-০৯-২০২৬ ১০:২১:০৮ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ৩০-০৯-২০২৬ ১০:২১:০৮ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
‘প্রতিটি হৃদস্পন্দনই জীবন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জে বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সুনামগঞ্জ শহরের কাজীর পয়েন্ট এলাকায় বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সুনামগঞ্জ হার্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি ডা. সৈয়দ মোনাওয়ার আলীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান প্রফেসর ন্যাথানায়েল এডউইন ফেয়ারক্রস, প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সহ-সভাপতি নূরুর রব চৌধুরী এবং দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর-এর সম্পাদক পংকজ দে।
াংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি মো. মুরশেদ আলমের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নূরুল ইসলাম গাজী, সদস্য একে উছমানগণী, জয়ন্ত কুমার দাস ও বীরেন্দ্র কুমার দাস।
সভার শুরুতে কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান চৌধুরী এবং গীতা থেকে পাঠ করেন সদস্য অনুকূল চন্দ্র মৈত্র।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহাব উদ্দিন, ক্যাপের সভাপতি এখলাছুর রহমান, সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ মো. তাজ উদ্দিনসহ বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি ও প্রবীণ হিতৈষী সংঘের অন্যান্য সদস্য এবং রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি সুনামগঞ্জ জেলা ইউনিটের ভলান্টিয়াররা।
সভায় বক্তারা বলেন, সংকেত চিনুন, ঝুঁকি জানুন, সময়মতো পদক্ষেপ নিন, এই আহ্বানকে সামনে রেখে বিশ্ব হার্ট দিবসের কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। হৃদ্রোগ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। তবে সচেতনতা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে হৃদ্রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
বক্তারা বলেন, হৃদ্রোগ সবসময় স্পষ্ট লক্ষণ নিয়ে দেখা দেয় না। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা দীর্ঘদিন অজানা থাকতে পারে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে নিজের ঝুঁকি সম্পর্কে জানা জরুরি।
তারা বলেন, বুকের মাঝখানে চাপ, ভারী অনুভূতি বা অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট, ঠাণ্ডা ঘাম, বমিভাব এবং বাহু, পিঠ বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়া ব্যথা হার্ট অ্যাটাকের সতর্কসংকেত হতে পারে। সবার ক্ষেত্রে একই ধরনের উপসর্গ নাও দেখা দিতে পারে। তাই এসব লক্ষণ দেখা দিলে গ্যাস বা সাধারণ অসুস্থতা মনে করে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নিতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উপযুক্ত জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে হৃদ্পেশির ক্ষতি কমানোর সুযোগ বাড়ে।
হৃদ্রোগ প্রতিরোধে জীবনযাপনে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও ওজন নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন ও নিয়মিত ফলোআপ চালিয়ে যাওয়ারও আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা বলেন, শুধু রোগী ও পরিবারের সচেতনতা যথেষ্ট নয়, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকেও কার্যকর হতে হবে। দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, দক্ষ চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মী এবং প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে দ্রুত স্থানান্তরের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশ্ব হার্ট দিবসের কর্মসূচির মাধ্যমে হৃদ্স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যক্তি, পরিবার ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার সম্মিলিত দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে হৃদ্রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে আরও বেশি সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং সুনামগঞ্জে ফাউন্ডেশন ভবন নির্মাণের জায়গা ক্রয়ের বিষয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ